স্বপ্ন ও দৈনিকঃ ২/২০/২০২৪

গত শুক্রবারে ক্যাম্পাস ট্যুর পার্টির সাথে ডেথ ভ্যালে ঘুরতে গেসিলাম। আমার ক্লাস ছিল ১২ থেকে ৩। ভুলে গেসিলাম ক্লাসে ঢুকসি সাড়ে বারো। বের হয়ে গেসি ১ঃ২০ এ।  প্রফেসর ককরানকে ইমেইল দিলাম ঘটনাটা জানায়ে আর দুঃখিত বলে। 

এখন সেমিনার ক্লাসের অডিও রেকর্ড নিসি জিয়নের কাছ থেকে। আগে এটা শুনব, তারপর রিসার্চ টপিক ভাবব। 

এখন কাজঃ দুইঘন্টার সেমিনারের অডিও শোনা। 

দুপুরেঃ

জিয়নের সাথে মারামারি করসি। বক্সিং টাইপ। এট্যাক- ডিফেন্স- এট্যাক- ডিফেন্স। 


স্বপ্নঃ

আজকাল শুধু পানি স্বপ্ন দেখি।

উল্লেখযোগ্যঃ

১।  খুবই থিক লিকুইডে জিয়ন আমি। দাড়ায়ে থাকা যাবে না। লেফট রাইট করতে হবে। দাড়ালে প্রচন্ড গরম তাপমাত্রা। এটা একটা জেলখানার মতন বা টর্চার সেল। নতুন কাইন্ড অব টর্চার এক্সপেরিমেন্ট করতেসে।  লিকুইডের টেম্পারেচার সহনীয় যদি একপা করে করে উপরে তুলি। দুইপা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলে তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে ওঠে। একটা টাবের মতন- মিরপুর ১৩ তে জেবাদের নানুর বাসায় যেমন ছিল- চারকোণা গোসলখানা- এটাও চারকোণা। একটা দেয়ালের সাথে- দেয়ালে উপরে ছোট একটা জানালা আছে।

২। গতকালই দেখলাম- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি- তবে ভিন্ন আর্কিটেকচার। অনেক খোলামেলা। ঝড়বৃষ্টি বাদলায় বেশ কিছু রুম লন্ডভন্ড হয়ে গেসে- ছাদের বা টপ ফ্লোরের। কারণ এগুলা বেশ খোলা স্টাইলে বানানো হইসিল। খেয়াল করে দেখলাম চটের রঙের মোটা কাপড়ের পর্দা টানা দেয়া হইসিল, যেগুলা আগে দেখি নাই- ওয়ালের মত করে- ছাদ থেকে ফ্লোর বরাবর।  সেগুলা ছিড়ে ছুড়ে গেসে ঝড়ে। আমি এসবের মাঝে পরে- আমার কোলে একটা মনুষ্য বাচ্চা ছিল, কাধের ব্যাগে মানিব্যাগ আর ফোন ছিল আর সাথে ছিল শিবু দি কালু বিড়াল। সব খোয়া গেছে। শিবু ভয় পেয়ে পেয়ে এদিক ওদিক চলে গেসে। আমার কোলের বাবুটা কোথায় যেন- কিছুতেই মনে করতে পারলাম না কোথায় হারাইসি। কোনো আত্মীয়ের বাচ্চা। সাথের ফোন মানিব্যাগ কিছুই আর নাই। সাধের আইফোনটা গেল। আমি বোধয় কোনো নেশার ঘোরে- গাঁজা বা কিছু। কিছুই মনে করতে পারতেসি না এই দুর্যোগে সব হারায়ে ফেললাম। সিড়িটা দিয়ে নামি বা উঠি। সিড়িটা একদম খোলা। ঝড় বৃষ্টির ধাক্কা টের পাওয়া যায়, ভিজে যাওয়া। প্রচন্ড বাতাস এর মধ্যে সিঁড়ি বেয়ে নামতে হবে। শিবুকে ডাকতেই দেখলাম ও আছে- ফোলো করতেসে যেভাবে পারে- এরমাঝে আরও মানুষজন দেখে ভয়ে লুকায়ে পরতেসে। তাও সাথে আছে। এইটাই একমাত্র সম্বল সব হারায়ে শিবুকে নিয়ে ফিরি। যা কিছু পায় হারায়ে যায়----

৩। টেন্ট করসি। বৃষ্টির পানিতে টেন্ট ভিজে গিয়ে পানির ভিতরে প্রায় চার-পাচ ইঞ্চি ডুবে যাইতেসে। তখন বের হয়ে তাবু থেকে- তাবুকে টেনে শুকনা জায়গায় নেবার চেষ্টা করলাম। প্রফেসর ক্রসকে দেখলাম অথবা ভাবলাম স্বপ্নের মধ্যে। ওর দেয়া কাজের কথা ভাবলাম হয়ত।

মন্তব্যসমূহ