জুলাই ২০,২০২৫
#স্বপ্ন
ধানমন্ডির সুবহান মসজিদের সামনের রাস্তাটা দিয়ে জগিং করতেসি- দৌড়াইতেসি- দিক নিউমার্কেটমুখী। আর কানে ইয়ারফোনে মায়ের সাথে কথা বলতেসি। মাকে বলতেসি কত যে ভালো আছি শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে, আর্থিকভাবে - নাটক সিনেমায় ভালো থাকা মানুষেরা যেম্নে ভালো থাকা বুঝায় - ফুটপাতে স্বতস্ফূর্তভাবে কানে ইয়ারফোনে কথা বলতে বলতে দৌড়ানোর দৃশ্য দিয়ে ব্যাপারটা আরও পাকাপোক্ত করতেসি যেন। এই করতে করতে একটা হুইলচেয়ারে করে চলতে থাকা মানুষের চেয়ারে একটা ধাক্কা খাইসি। কিছুটা সামলে উঠেই আবার যেইখানে ছিলাম সেখানে ফেরত গেলাম - মায়ের সাথে ফোনে কথা বলতে বলতে দৌড়ানোতে। পাচ সেকেন্ড পেরোলে আমি তখন মোড়টায় পৌছে গেসি, দাড়ালাম গলিমুখের রাস্তা পেরোবার জন্য। মনে হল পিছনে পরে যাওয়া হুইলচেয়ার লোকটার জন্যেও দাড়ানো দরকার । খুজে পেলাম - সেও মোড়ে চলে এল তবে এখন বগলের নিচে ক্রাচ - আর পজিশন দাড়ানো। আমি মুখোমুখি দাড়িয়ে - খানিকটা ঝুকে তাকে সর্যি বললাম। মনের ভেতরে কেমন বিশ্রী একটা লজ্জা লাগা অনুভূতি হইতেসিল - একটা ভাজহীন দাগহীন কাগজ হঠাত কেউ হাতের ভেতর নিয়ে দুমড়ে দিলে যেমন লাগে- কেমন মান সম্মান ধূলিস্মাত হতে যাওয়ার মতন অনুভুতি। সে আমাকে গাল বরাবর একটা চড় দিল। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম না তবে বুঝতে জানতে ইচ্ছা হইল তার বেটার ফিল হইসে কিনা। হাত পা আছে আনন্দ আছে টাকা আছে এসব বেহায়ার মতন এত ব্র্যাগ করার কি হইসে? নিজের সন্তুষ্টি নিয়ে নিজে ভালো থাকার বাইরেও এতকিছু কেন করতে হয় ভাল থাকা নিয়ে এত কিসের গর্ব কয়দিনের ভালো থাকা। চড়টা পাওনা ছিল আজকের
#বাস্তব
ফিলিপিনো মার্কেটে গেসি মাছ আর মাংস কিনতে। জিয়ন ওইদিকে গরুর গোশত অর্ডার দিতে গেসে - এদের বললে ছোট পিস কইরা কাইটা দেয়। আমি গেসি এদিকে মাছের জোগান দিতে। একটা আঁশবিহীন মাছ চুজ করে দুই পিস তুলে নিলাম। দোকানদার মহিলাকে বললাম কুইটা ভাইজা দিতে। এখানে মাছ পরিষ্কার কইরা, কুইটা, ভাইজা দেয়ার অপশন থাকে। মহিলা ইতস্তত করল - পেছনের দিকে সিনিয়র দোকানদারের দিকে তাকাই জিজ্ঞেস করল - "এখন কুইটা ভাইজা দিমু?"। সিনিয়র মাথা খুব হাল্কা আসতে নাড়াইয়া বলল এটাই আজকের শেষ মাছ ভাজা। ঘড়ি দেখলাম না তবে বুঝলাম রাত হইসে বেজায়। আমার পিছে আরও অনেকেই ভাজা মাছের আশায় কাচা মাছ নিয়ে লাইনে দাড়াইসিল আস্তে আস্তে সবাই মাছ রাইখা ভাগল একজন ছাড়া- ওর হাতের মাছের সাইজ এত্ত বড়ও না। আমিও মাছের দোকানদাররে মাছ বুঝাই দিয়া আরও মাছের খোজ করলাম। নরওয়েজিয়ান ম্যাকারেল নিলাম তুলে ( বাংলা আয়লা/আইলা মাছ) - তিন পিছ।
ভাজা মাছ ফেরত পেয়ে বাসায় এনে খুললাম প্যাকেট - কাগজে মুড়ে পলিথিনে করে দিসে। প্যাকেট খুলে একটা মাথা মুচমুচে ভাজা মাথা খেতে খেতে আরেক মাথা খুজে দেখি দুইটা মাছের মাথা ফিরসে একটা। কুড়মুড় মাথাটা চিবোতে চিবোতে পুরা প্যাকেট খুলে মীনার মতন অংক করতে বসলাম- দেখি দুইটা মাছ মিলাইতে গেলে একটা মাথা নাই আরেকটা মাছের পিছ নাই।
জিয়ন ততক্ষণে গরুর গোশত চড়াই দেয়ার সরঞ্জাম করতেসে। আমি গল্প শুরু করলাম- ছোটকালে বাসায় বুয়া আসলে যাওয়ার সময় একটু পিয়াজের টুকরা, কিছু রসুনের কোয়া, একটা মিষ্টি বা বিস্কিট, দুইটা ঢেড়শ কোচড়ের মধ্যে কইরা নিয়ে যাইত - ঘরে নাতি আছে, নাতির হাতের সন্দেশটা তুইলা দিলে দিনটা সফল যাইত তাদের আজকের এই মহিলা দোকানদার যখন শুনছে এটাই আজকের দিনের শেষ মাছ ভাজা - হিসাব কইরা দেখল সারাদিনে কিছুই জোগাড় দিতে পারে নাই। তাই খালি হাতে ঘরে ফিরার চেয়ে শুকনা দুইটা মাছের পিছ- মাছের মাথাসহ - বাসায় নিয়া গেলে- দিনটা সফল হইতেও পারে এই ভেবে...
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন