স্বপ্নঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪
# Distorted reality
বিকালে শুইলাম, ঘুমাবো। উঠসি সকালে সাড়ে আটটায়। আমার জন্য অনেক সকাল তাই বিকাল হবার আগেই চোখ ভেঙে ঘুম আসতেসে। ঘুমাবার আগে মনে হল একটা পর্ণ দেখি, ফিজিক্যাল স্যাটিস্ফেকশন নেই। তাহলে ঘুমটা ভালো হবে।
জীবনে প্রথম কবে মাস্টারবেট করি? মনে করবার চেষ্টা করলাম মনে পড়ল নাহ। শুধু মনে পড়ল ছোটবেলায় , মানে যখন টিনেজে, পিরিয়ডের সময় পেরোলে একটা সময়ে আসত যখন অনেক হর্ণি ফিল করতাম আর ভোদা থেকে অনেক রস বেরোত, রসের গন্ধটা লাগত নারকেল ডাবের পানির মতন। ইচ্ছা হত কেউ আমার রসের স্বাদ নিক, আমি বাদে আর কেউ জানুক আমার রসে কেমন মধুর স্বাদ।
মাস্টারবেট করে ঘুমিয়ে পরলাম। স্বপ্নের মাঝে এইসব ভোদা, ধোন, শরীলের ঘষাঘষি ইত্যাদি বোধ হইতে লাগল। তন্দ্রার মতন চোখ মেলে ভাইব্রেটরটা ( বালিশের পাশেই তখনও) নিয়ে আবার ভোদায় ঘষলাম। এরমাঝেই আবার ঘুমের ঘোরে চলে গেলাম।
মনে হচ্ছে এটা কোনো সিমুলেশন, আমি একটা সিমুলেশনের অংশ।
একটা ইন্টারোগেট রুম- যেমনটা মুভিতে দেখি ফাকা একটা রুমে শুধু চেয়ার আর টেবিল। আমার আশপাশে কিছু সায়েন্টিস্ট পুলিশ আমাকে অনেক জেরার মধ্য দিয়ে নিয়ে গেল, ওরা আমাকে জেরা করল যে আমি জানি যে আমি এই সিমুলেশনের অংশ। দৃশ্যে আমার বয়স আরও ২০ বছর পেরিয়ে। জেরার প্রশ্নবানে খুব ওভারহোয়েলমড, ক্লান্ত হয়ে গেলাম। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল এই ধরণের অদ্ভূত ইন্টারোগেশনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে জীবনে।
ওরা যখন পুরাপুরি নিশ্চিত হল এই বিধ্বস্ত বিপর্যস্ত আমাকে দেখে যে আমি এর কিছুই জানি না, তখন ফাসির আসামীকে যতোটা সহানুভূতি দিয়ে মানুষ কথা বলে তেমন সহানুভূতিশীল কণ্ঠে আমাকে জানানো হল যে আমি একটা সিমুলেশনের অংশ।
এই শঙ্কাটা যে কখনোই করি নাই তা বলাটা খুবই ভুল হবে। এরকম প্রায়ই মনে হত আশপাশের কিছু এরর প্রায়ই চোখে পড়ত যাতে মনে প্রশ্ন উত্থাপন হত যে এগুলা কি সিমুলেশন? আবার দিনটা ফুরোলেই, ভালোতে , মন্দতে মিলেমিশে এসব ভুলে যেতাম। ভাবতাম গাঁজা খেয়ে এসব গাজাখুরি ভাবা। এই যে চোখের সামনে দৃশ্যগুলো, ঘাস, আকাশ, মানুষ, বিড়াল সব নিয়ে একটা সংসার পেতে নেয়া, পড়ালেখা, কাজকর্ম, খেলাধূলায় মন বসিয়ে নেয়া। এত ভালো বা খারাপ লাগে যে সিমুলেশনের কথা সব ভুলে যাই। তারমাঝেও প্রায়ই ধ্যানের নামে কানেক্ট করার চেষ্টা করি যদি কেউ খেলে থাকে আমাকে নিয়ে সে যেন একটু হিন্টস দেয় যে আমি হুদাই পাগলের মতন ভাবতেসি না। জাস্ট এটুকুই। জানতে পারা যে কেউ একজন "খেলিছে", "বিরাট শিশু"। যেমন হঠাত জানতে পারা মৃত্যুর পরে বলে কোনো জগত নেই, অন্তত মিথ, ধর্মে যা পড়ে আসছি অন্তত তেমনটার মতন কিছুই নাই। তারপর সেই মৃত্যুর পুরাতন ধারণা থেকে নতুন ধারণা মনে-প্রাণে মেনে নেয়া। গ্রাউন্ডেড হয়ে শূন্যতাকে মেনে নেয়া। শুধু এটুকুই, জাস্ট জেনে রাখা।
আজ এই ইন্টারোগেশনের রুমে বসে মগজের ভেতরের স্মৃতি থেকে অনেক অনেক তুচ্ছ, ক্ষুদ্র দৃশ্য বেরিয়ে আসতে লাগল চোখের সামনে। সেই মিরপুর সেনপাড়ার বাড়ির সামনের মাঠ, মাঠের প্রান্তে কাশফুল ছোঁয়া, কাশফুলের সাদা সাদা তুলো উড়তে উড়তে চোখকে মুগ্ধতায় ভাসিয়ে নেয়া, ঘুম ভেঙে আকাশের দিকে তাকানো, আর পানির ভেতরে হাত দিয়ে হাতের দিকে তাকিয়ে থাকা, শুয়ে শুয়ে বই পড়া, আলো আসা জানলা গলে, পায়ের উপরে পরা। কাথা টেনে নিজের শরীরকে উষ্ণতা দেয়া। এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সব দৃশ্য চোখের সামনে এনে, দৃশ্যগুলো থেকে নিজেকে উইথড্র করে নিচ্ছে মস্তিষ্ক। সবই বানানো, তাহলে এত কেন আপন, রিয়েল লাগে, কেন মায়া লাগে, কেন এত আবেগি লাগে। কিভাবে আমি জড়িয়ে গেলাম মাটি আর শিকড় যেভাবে জড়িয়ে থাকে আর আলাদা করা যায় না- এভাবে।
সব মিথ্যা হয়ে গেলেই বা আসলে কি হয়? হয় যে আমি যা যা বোকামি, ভুল কাজ করসি, বাজে আচরণ করসি কারো সাথে- সেগুলা আসলে আমার দায় না, এভাবে দায়মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু প্রাত্যহিক দিনযাপন, আনন্দ উতসব, ভালোবাসা অনুভূতি হাজার ধরণের ... দায়মুক্ত হতে গেলে পুরোপুরি দায়মুক্ত হতে হয় তাহলে এই এটাচমেন্টকেও পুরাপুরি ডিজওউন করতে হয়। সেটা ভেবে আর দায়মুক্ত হতে আর চাইলাম না। পুরোটাই থাক, একটা ইউনিট হয়ে। সব এরর থাক, ডাটা আনক্লিন থাক।
সময়টা বিকাল গড়ানো। স্বপ্ন তন্দ্রা হাল্কা ভেঙে গেলে আধোঘুমে একটা চোখ খুলে দেখি বামপাশ হয়ে শোয়া আমি, আর কোলের কাছে শিবু আমার কালো ছোট বিড়াল শুয়ে। দেখি যে শিবুর এনিমেশনটা পুরোপুরি পারফেক্ট হয়নি এই পজিশনে। যেভাবে শুয়ে আছে তাতে সামনের হাতদুটো মনে হচ্ছে জাস্ট আমার মতন বাজে আর্টিস্ট দিয়ে আকাইসে। যাই হোক, আমি তো জানি সিমুলেশন তাই আর অবাক হবার অনুভুতি, যাচাই করার ইচ্ছা কিছুই হল না। আবার চোখ মুদলাম।
যে আমাকে নিয়ে খেলছে তাকে ভাবার চেষ্টা করতেসি। সে কি? কে?
একটা জেলখানার একটা সেমি-অন্ধকার সেলে তার জীবন আবদ্ধ। সকাল থেকে রাত, রাত থেকে সকাল, বছরের পর বছর ওর কেটে যায় এই সেমি-অন্ধকার ঘরে। এত পানসে জীবনের স্বাদ কাটাতে এই সিমুলেশন খেলায় মাততে হয় তার। অনেক অনেক এলিমেন্ট, ইন্সিডেন্ট, চরিত্র, ঘটনা, দুর্ঘটনা, অথবা দিনকে দিন যাপন -আমার পুরো জীবনটা ও প্রোভাইড করে যায় এই খেলার মধ্য দিয়ে। আমার মাঝ দিয়ে বাচে, আমার মাঝ দিয়ে অন্য পৃথিবীর সাথে কমিউনিকেট করে ও। ভাবতে ভাবতে মনটা কেমন যেন কৃতজ্ঞ হয়ে উঠল। তবু তো পেলাম একটা জীবন, জীবনের স্বাদ। বিরহও বড় ভালো লাগে। সবচেয়ে ভয়ংকর কষ্টের মধ্য দিয়েও বেচে থাকারই গান গাই। আর এটা নিশ্চিত আমি যে, বাচতে আসলে অনেক অনেক সাহস লাগে- রিয়েলিটি যেটাই হোক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন