পিএইচডিঃ প্রথম সেমিস্টার ১

২৩ তারিখ অরিয়েন্টেশন ছিল, মিস করসি। ফ্লাই করতেসিলাম। ২৪ তারিখ গেলাম ডিপার্টমেন্ট। পেপারওয়ার্ক উইথ এলিসন ল্যানে। জিয়ন, আমিসহ চারজন নিউ স্টুডেন্ট। ডিপার্টমেন্ট ঘুরায়ে দেখাইল। পাবলিক হেলথ খচিত টিশার্ট দিল। 

তারপর গেলাম স্টুডেন্ট সার্ভিস সেন্টারে, কার্ড বানাতে। একটা ব্যাংক একাউন্ট খুললাম নতুন। ডিরেক্ট ডিপোজিটের জন্য। 


পরদিন মিটিং প্রফেসর বাঙ্গামের সাথে।

প্রফেসর বাঙ্গাম। আমার টেম্পোরারি এডভাইসর। দুপুর ১২ টা। নক দিলাম দরজায়। বয়স ষাটের কোঠায়। অনেক কথা বলা টাইপ। কোথা থেকে আসছি জানার পরে বাংলাদেশের কলেরা ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইল। টিপিক্যাল পাবলিক হেলথ প্রফেসর। কলেরায় আমার বাপ-মায়ের জেনারেশন পর্যন্ত অনেক মরসে কিন্তু এখন নাই জানালাম। 

পিএইচডি স্টুডেন্ট হিসেবে জীবনে এখন কি করণীয় তা নিয়ে আলাপ করল। অনেক অনেক পড়তে হবে, অনেক অনেক লিখতে হবে। তার পিএইচডি ডিসারটেশন নিয়ে গল্প করল আর সেই পুরাতন নোটবুকগুলো খুলে আমাকে দেখাইল। তিনটা নোটবুক। প্রথমটা খুলল- তিনটা কলাম। বিভিন্ন পেপার পরে তার ইন্ট্রোডাকশন, সামারি আর কনক্লুশন লেখা- বিভিন্ন টপিকের উপরে। পরেরগুলায় টপিক আরও ন্যারো ডাউন করা। আমার অলরেডি প্রফেসর ম্যানেজড শুনে একটু অফ হয়ে গেল। এরপর ওর এক পিএইচডি স্টুডেন্টের একটা ভারি ডিসার্টেশন ধরায়ে দিয়া বলল সময় নিয়ে পড়তে। বললাম পরে পড়ব। কদিন ধরে একটু ব্যস্ত থাকব।আমরা বাসা পাল্টাবো তাই মাসের বাকিটা যাবে ওলট পালট আর গোছগাছ। জিগাইল- "আমরা" কারা। বললাম মাকসুদুল আলম, আমার পার্টনার, একসাথে প্রোগ্রাম শুরু করতেসি। তুমি তো চিনো তোমার ক্লাস নিসিল। দুই সেকেন্ড নিয়ে মনে করল। সাথে সাথে জিগাইল ও আমার কথা কি বলসে?

ঃ ও অনেক ভালো মানুষ, মানুষের নামে বাজে বলে না। তোমার কথাও বলসে অনেক ভালো মানুষ। 

ঃআচ্ছা আচ্ছা। বলসে আমি ফানি? ফান করি ক্লাসে? 

ঃহ্যা বলসে ফান করো তবে এগুলা এতও ফানি হয় না। 

ঃমাকসুদুল তোমাকে তাই বলসে? 

না ও সেটা বলে নাই।  i am just messing  with you. বলে বেরিয়ে গেলাম। গন্তব্য আমার প্রফেসর।


আমার প্রফেসর, শ্রদ্ধেয় চ্যাড ক্রস। ডিপার্টমেন্টে ঢুকে প্রথম রুমটাই তার। ওর রুমে গেলে জানাইলাম বাঙ্গামের কাছে গেসিলাম। কিছুটা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গি করল যেন। জিজ্ঞেস করল তুমি আমার স্টুডেন্ট শুনে কি বলসে? বলসে যে তোমার সাথে রিসার্চ নিয়ে আলাপ করতে যদি বা পেয়ে যাই আমার রিসার্চ ইন্টারেস্ট।

নিজের কাজ নিয়ে বলল। ওর একটা ল্যাব আছে, বায়োলজি ল্যাব। আমার এক্সেস আছে জানতে চাইলাম। না। আমাকে কড়া প্রোটোকলের মধ্য দিয়ে যেতে হবে ওই ল্যাবে ঢুকতে চাইলে, মানে ট্রেইনিং করতে হবে। আমি ইন্টারেস্টেড হলে most welcome. কাজের লোক সবসময়ই নাকি কম হয়ে যায়। আমি তাকে জানালাম যে এই অপরচুনিটি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ, আমি বিষয়টা মাথায় রাখব। 

আমার কাজের মাথামুণ্ডু বুঝায়ে দিল তবে কাজ শুরু হবে পরে, আগে pay roll  এ অন্তর্ভুক্ত হই। ডিপার্টমেন্ট ট্যুর দিল আমাকে নিয়ে। দেখাই দিল কোন ডিপার্টমেন্টের কোন জায়গায় বসলে বেশি নিরিবিলি কাজ করতে পারব। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জুন ২৭,২০২৫

জুন ১, ২০২৫

স্বপ্নঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪