স্বপ্ন ও দৈনিকঃ ডিসেম্বর ৪, ২০২৩
#স্বপ্নঃ
এলাকাঃ মফস্বল একটা এলাকা। স্কুল এরিয়া। ইটের দেয়ালে সাদা চুন করা রেলিং করা। সেই রেলিং ধরে হাটলে ছেলেদের বাথরুম/ টয়লেট। বাথরুম পেরিয়ে আরও বামে গেলে পরিত্যক্ত এলাকা। ইটের দেয়াল তুলে সাদা চুন মেরে দেয়া অর্ধেক অর্ধেক দেয়াল। মাঝে কয়েকটা মিসিং ইটের জানালা। মাকড়সার ঝুল। মেঝেটা মেটে বালি, ছোট পাথর, ইট। এদিক থেকে সোজা যেদিক থেকে আসলাম ওদিকে তাকালে ক্লাসরুম, করিডোর তার সামনের দিকে স্কুলে যাওয়া আসার প্রশস্ত রাস্তা। স্কুলের কোনো গেট নাই।
প্রফেসর জোডি মিড। আমার মাস্টার্সের এডভাইসর।দেখতে,হাসিটা অমিতাভ বচ্চনের বউ জয়া বচ্চনের মতন, ষাটের কোঠায় বয়স। টেনসড ও একটু দুঃখী চেহারায়। আমি বোকা বোকা বোধ করছি। কিছু একটা বলতে হবে, কিছু একটা করতে হবে। বললাম ড্রিংক করবা? বলেই আবার ভাবতে লাগলাম ক্যান এই অফার করতে গেসি এখন আমার কাছে কি ড্রিংক আছে যে আমি ওকে অফার করতে পারি?
সে বলল হ্যা, কি ড্রিংক আছে? চোখের সামনে বিয়ারের কেস ভাসতেসে, কিন্তু হার্ড ড্রিংকের বোতল আছে দুইটা। একটা হুইস্কি বা টাকিলা। আরেকটা ভদকা। বললাম হুইস্কি, আর ভদকা। চাইতেসি হুইস্কি চাক/বলুক। কারণ আমি (স্বপ্নে বাস্তবে) হুইস্কি পছন্দ করি না। আর বোতলের তলায় বহুদিন ধরে দুপাচ পেগ হুইস্কি জমে আছে, কেউ খেয়ে বোতল খালি করে আমায় উদ্ধার করুক। বলল হুইস্কি দিতে পারো এক পেগ। একটু আগে যে আমি হুইস্কি নাকি টাকিলা এইটা নিয়া কনফিউজ ছিলাম সেটার কারণ এখন বুঝলাম, বাস্তব (যেই আমি স্বপ্ন দেখতেসি তার বাস্তবে) একটা টাকিলার বোতল আছে লাস্ট দুই-পাচ পেগ হবে এরকম। আর স্বপ্নে আমার হুইস্কির বোতলটাও তাই। লাস্ট কিছু পেগ বোতলের নিচে পরে আছে, এবং এটার রঙ টাকিলার মতন সাদা। পানি কালারের হুইস্কি দেখে অস্বস্তিতে পরে গেসি। এটা হুইস্কির কোনো জাত হল? কোলা মিশায়ে দিব? হ্যা ভাবতে ভাবতে কোলা মিশায়ে দিলাম। যেন হুইস্কির রঙটা একটু হুইস্কির মতন হয় তাই। কোলাটা বহুদিন ধরে পরে আছে, ঝাঝ নাই। এটা মনে করে আবার অস্বস্তিতে পরে গেলাম যে একটা পেগ বানাবো প্রফেসরের জন্য তারমধ্যে এরকম সস্তা বাজে আচরণ করতেসি।
আমি এপিডেমিওলজির ক্লাস থেকে বের হইসি ব্রেক নিয়ে। টয়লেট ব্রেক নিসি আসলে ক্লাস ফাকি দেয়া মুল লক্ষ্য। ক্লাসের মধ্যে জিয়নরে রাইখা বের হইসি। ডঃ বাংগামের ক্লাস। আমি বাইরে বসে অর্ধেক দেয়ালের উপরে বসে হাওয়া খাইতেসি, সাথে আর কে জানি জয়েন করল হাই হ্যালো মার্কা আলাপ চলতেসে। এরমাঝে কথা নাই বার্তা নাই দুইটা লোককে দেখলাম দুইজনের হাতে দুইটা বন্দুক। একটু সতর্ক হয়ে গেলাম। বাংগামের রুমে নক দিল। বাংগাম দরজা খুলে বের হয়ে "হু আর ইউ" টাইপ কিছু বলল সাথে সাথে ওরা দুইজন প্রায় একসাথে দুইটা বন্দুক দিয়ে দুটা গুলি মেরে দিল বাঙ্গামের খুবই হাল্কা নীল স্ট্রাইপ সাদা শার্টে। আমি আর আমার সাথের জন ঘটনাটা প্রতক্ষ্য করলাম। আর ওই দুইজন বাংগামকে মাঝে রেখে দুইপাশ থেকে দুইজন দরজা দিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকে গেল। পাশেরজন পুলিশ বা কাউকে রিচ করার কথা বলতেসে বা রিচ করার চেষ্টা করতেসে। আমি ফ্রোজেন মোডে চলে গেলাম ভেতরে জিয়ন আছে। মনের কোণে কে জানি আশা দিতেসে জিয়ন একটা বুদ্ধি বের করে ফেলবে বাচার জন্য। কিন্তু ... আর কিছুই ভাবতে পারতেসি না।
#বাস্তব
গতরাতে ঘুমাইতে গেসি ভোর চারটায়। বায়োস্ট্যাটিস্টিক্সের প্রজেক্টের লাস্ট সাবমিশন ছিল সেটা ডিউ টাইম চারঘন্টা পার করে ঘুমাইতে গেলাম। গভীর ঘুম আর হল না একফোটা। হাল্কা হাল্কা ছাড়া ছাড়া। এরমাঝে ঘুমের মধ্যে বাসার দরজা দিয়ে ঢুকে হাটতেসি ঘরে দেখতেসি বাসাটা এসব স্বপ্ন দেখলাম। বুঝলাম এগুলা ঘুমের মাঝে। আরও দেখার চেষ্টা করলাম আর হল না। জিয়ন ঘুমায়ে গেসিল আমার বিছানায়, শিবের(বিড়াল) সাথে। সকালে উঠে শিবের বমি পরিষ্কার করল, হাগুর বালি পরিষ্কার করল। সাইকেলের চুরি হয়ে যাওয়া চাকার বদলে নতুন দুটা চাকা লাগাল। আমার সকাল আটটায় অনলাইন মিটিং ছিল এলজেইমার প্রজেক্টের, জয়েন করলাম না। শুয়ে রইলাম। আর আশপাশের শব্দের মাঝে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পরে রইলাম। বিকালে ক্লাস ছিল, জিয়ন গেল। আমি বাসায় রইলাম। প্রফেসরকে ইমেইল করসি যাবো না। বার্লি দিয়ে সবজি খিচুড়ি রানলাম আর তেলাপিয়া মাছ ভাজি একটুকরা মাথা আর তিনটুকরা মাছ। পিরিয়ডের আর তৃতীয় দিন। এবার পিরিয়ডটা স্মুথ গেসে খুব। পিরিয়ড শুরুর ঠিক কঘণ্টা আগে সেক্স করায় হয়ত। পিরিয়ড শুরুর আগের ব্যথাটুকুকে আমি ভাবতেসিলাম সেক্সের ব্যথা কিনা। তবে এবার মুড, শরীর, মন, মাথা বেশ সুস্থবোধ আছে। সন্ধ্যায় দুইঘন্টার মিটিং করলাম আরেকটা কোর্সের গ্রুপ প্রোজেক্টের কাজ। আজ সপ্তাহের প্রথমদিন -সোমবার। এই সপ্তাহ পেরোলে আর একসপ্তাহ- মানে দুইসপ্তাহ জাস্ট সেমিস্টারটা শেষের। মীম আসতেসে। জিয়ন, আমি আছি। আর আছে বিড়াল শিব। এবারের শীতকালীন ট্যুরটার প্রতিক্ষায়। উইন্টার ২০২৩।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন