স্বপ্ন ও দৈনিকঃ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৪

 দৈনিকঃ

গতরাতে শারীরিক ব্যায়াম করসি। আর পানি খাই নাই রাতে ঘুমের মাঝে হিসু পায় নাই। এককালীন ঘুম হইসে, ভালো ঘুম হইসে।

সকাল ৮ঃ৩০

শীত চলে গেসিল, আবার আসছে পরশু। গতকাল সারাদিন রাত টিপটিপ বৃষ্টি হইসে। জিয়ন আর আমি দুইজনে এলার্ম দিয়ে ঘুম থেকে উঠসি। আজকে শুক্রবার। সকালে একটা অনলাইন সেমিনার আছে এটেন্ড করতে হবে। প্রতি শুক্রবারে সেমিনার ক্লাস থাকে ইন-পারসন- দুপুর বারোটায়। প্রফেসর ককরান বলে দিসে আজকের এই অনলাইন "ওয়েবিনার"এ জয়েন করাই আজকের ক্লাস।  প্রফেসরও তার বক্তব্য রাখবে এই  সেমিনারে। সেমিনারের বিষয়- UNLV Health Law Program - Legalizing Medical Aid in Dying। জীবনের কঠিন পর্যায়ে আছে যারা তাদের মৃত্যুর অধিকার নিয়ে।- whose life become untolerable...  to end the suffering. তিনঘণ্টার সেমিনার। 

for reference: Sanjay Leela Bhansali's Guzaarish (2010)


সেমিনার বলল শেষ হবে সাড়ে বারোটায়। শেষ হল আরও কিছুক্ষণ পরে। আমি এলার্জি ক্লিনিকে ফোণ দিয়ে বললাম আজকে শট নেয়া যাবে কিনা। হ্যা যাবে। খুব বার্গারের ক্ষুধা পেল ইন এন্ড আউটের- ক্রেভিং। কদিন ধরেই। সেই গত সপ্তাহের শনিবার থেকে। আজ শুক্রবার। বার্গার খাবো।

জিয়নকে বললাম চল বাইরে যাই। তাপ পোহাই।  জিয়ন পাত্তা দিল না।  রেডি হয়ে আবার বললাম আমি বার্গার খাইতে যামু ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটেও পাত্তা দিল না। বাল মেজাজটা বিগড়ায়ে গেল। কাইজ্জা করলাম, ওর রুমের দরজার পাশেই দরজা খুললে হাতের দামে একটা ছোট সেলফের উপরেরে তাকে যা জিনিস ছিল ফালায় দিলাম। পায়ের কাছে বিনটাকে লাথি মারলে ওর গিটারের প্রান্তে গিয়ে পরল। ও মূলত গিটার নিয়াই ছিল সেমিনারের মধ্যেও মার্কেটপ্লেসে গিটার দেখতেসিল। সকাল থেকেই আমারে পাত্তা দিতেসে না।

বের হয়ে গেলাম বার্গার খাইলাম তারপর এলার্জি শট নিতে। ফিরলে দেখি দরজা খানিকটা খোলা। জিয়ন আর শিবু অনেক ফান টাইম কাটাইসে জিয়ন জানাইল। রোদে গিয়ে রোদ তাপাইসে, শিবু পাখি দেখে ঠোট কাপায়ে কেক্কেক করসে দৌড়ানি দিসে। শুনে আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম শিবু আই এম প্রাউড অব ইউ বললাম। 

জিয়ন জিজ্ঞেস করল তখন তুই এমন করলি কেন? বললাম তুই আমাকে পাত্তা দিতেসিলি না তাই। 

খানিক পরে বলল অমুক জায়গায় যাবি কিনা। আমি উত্তরে বললাম "পরবর্তী পরপর তিনটা 'যাবি কিনা' প্রশ্নের উত্তরে আমি না বলব" কারণ আমি গোস্বা করসি সকালে পাত্তা দেয় নাই বলে। 

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। শিবু সোফার উপরে আসন করে শোয়, ঝিমায়, ঘুমায়। এর মাঝে আমরা ইন্ডিয়ান স্টোর থেকে মুড়ি আর দুধ-মালাই মিষ্টান্ন কিনে ফিরি। আমি শিবুর গায়ের উপরে একহাত দিয়ে সোফার বাহিরের দিকে চিকন হয়ে শুই, ঝিমাই... এরমাঝে জিয়ন চুলায় ফ্রোজেন ব্রেডেড চিংড়ি ভাজে। শিবু তেলে চিংড়ি ছাড়ার শব্দ শুনে অথবা চিংড়ির গন্ধে মাথা উচু করে কি হচ্ছে বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করে।  জিয়ন এসে আমাকে আর শিবুকে অনেকগুলা চুমু খেয়ে যায়। 

এইসব ভালো লাগে।


#স্বপ্নঃ

একটা যাত্রা। আমি যাত্রার কোনো চরিত্র না- শুধু নাটকের দর্শকের মতন দেখতেসি সব।

সেই যাত্রায় একমাত্র পরিচিত মুখ মনে হয় শিশু ভাই। সবাই পুরুষ এখানে। 

তারপর সমুদ্র। সবাই একটা নৌকায় উঠল। সন্ধ্যা অথবা ভোরের আলো। সম্ভবত সন্ধ্যা।  

যাত্রার চরিত্রগুলার মধ্যেই একটা ছেলে। পরিচিত হয়ত না।  আমাদের মতন বা একটু কম হবে বয়স। এটাকে মূল চরিত্র ধরা যায়। ও জানে না ও মূল চরিত্র।কেউই জানে না।

নৌকাটা সমুদ্রের পাড়ের দিকেই। সমুদ্রের ঢেউ আচড়ে পরতেসে নৌকাকে অতিক্রম করে পাড়ে। আমি পাড়ে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখতে থাকি। 

হঠাত, যেই ঢেউগুলা সমুদ্রের পাড়ে আছড়ে পরতেসে- যাদের গতি শেষ হয়ে গেসে- তারা কোনো একটা দৈবঘটনায় গতিপ্রাপ্ত হয়- অনেক গর্জে উঠে আর উপরের দিকে উঠে যায় আর উল্টোদিকে ধাবিত হয়।  প্রথমে মনে হয় নৌকা বরাবর।  পরে বুঝা যায় ওই ছেলেটা নৌকার ডানের দিকে দাঁড়িয়ে সমুদ্রের দিকে মুখ করে- ওর বরাবর সব ঢেউ অধিক শক্তি নিয়ে ধাবিত হয়। ঢেউয়ের রঙ মূলত নীলের সাথে সবুজ আর পারপল লাইন- সুতার ঢেউয়ের মতন। 

-------শেষ-------------

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জুন ২৭,২০২৫

জুন ১, ২০২৫

স্বপ্নঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪