ঘুরাঘুরি ঃ ইউটাহ ১/২২/২০২৪
১/১৯/
শুক্রবার। সেমিস্টারের প্রথম উইক এটা। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট সার্ভিসের একটা লাঞ্চ আয়োজন ছিল। দুইজনে খেয়েই দৌড়ালাম ক্লাসে। ডক্টরাল সেমিনার, ড. ককরানের। সেটা শেষে বাসায় এসে নাকেমুখে কিছু খাবার গুজে দুইজনে রেডি হলাম বের হবো। উদ্দেশ্য ইউটাহ ও ঠান্ডা উপভোগ। যাত্রী জিয়ন, আমি আর আমাদের বিড়াল শিবু।
বিকাল পাচটার দিকে রওনা হলাম। শীতের দিন ছোট, পাচটার মধ্যেই ঘন সন্ধ্যা। আজকে রাতে ড্রাইভ করতে হবে বেশ খানিকক্ষন। জিয়ন ড্রাইভ করল। এরমাঝে দুর্ভাগ্যবশত শিবুর লেজটা জানলার কাচে আটকা পড়ল (দুই-এক সেকেন্ডের ঘটনা)। আমি খামচি খেলাম আর শিবু ব্যথা পেল। এত বেশি পায় নাই ব্যথা- লেজ ধরে বুঝলাম ভেরি মাইনর এক্সিডেন্ট।
রাতে একটা ক্যাম্পগ্রাউন্ড খুঁজে বের করলাম। প্রিমিটিভ ক্যাম্পগ্রাউন্ড, মানে কোনো ডেসিগ্নেটেড এরিয়া নাই। পুরা এলাকা যেকোনো জায়গায় ক্যাম্প করা যাবে। ক্যাম্প গুজবেরি মেসা, এপল ভ্যালে, উইটাহ। পৌছাতে পৌছাতে রাত ১০ টার মত বাজে। অন্ধকারে আলো জেলে তাবু টাঙায়ে এদিকে চুলায় "rice sides" মানে ভাত-পাস্তা ব্লেন্ড বসালাম।মাশরুম ভাজি করব তাই পিয়াজ ক্যাপসিকাল আলু কাটলাম। ভাত-পাস্তা হলে পরে ভদকার সাথে জিঞ্জার এলে মিশিয়ে ঢোক গিলতে গিলতে গা-টা গরম করে সবজি চড়িয়ে দিলাম। আকাশে মস্ত বড় চাঁদ উঠসে। পরিষ্কার ঝকঝকা আকাশ। চাঁদ দেখতে দেখতে খোলা আকাশের নিচে রানলাম, খাইলাম। এখন ঘুমাবার পালা।
শীতের রাতে ক্যাম্পিং মানে হইল একটা যজ্ঞ। স্লিপিং ম্যাট, ডাউন স্লিপিং ব্যাগ। সাথে ইমারজেন্সি ব্ল্যাঙ্কেট- পাতলা একটা এলুমিনিয়ামের কাপড়। রাতের বেলা এত ঠান্ডা পড়ল যে টেম্পারেচার শিশিরাঙ্কে পৌছালো। সব ভেজা ভেজা। আমার স্লিপিং ব্যাগের বাইরের পরত আর এলুমিনিয়ামের ভেতরের পরতে শিশির আটকে গেল। ফলশ্রুতি- সারারাত ধরে আমার পায়ের আঙুলগুলা বরফ ঠান্ডা হয়ে জমে রইল। আমার স্লিপিং ব্যাগের ভেতরেই শিবুও ছিল। ঠান্ডার মধ্যে ওকে ওর জামাটা পরায়ে আমার স্লিপিং ব্যাগের মধ্যে ছুড়ে দিলাম। মরার মতন পরে রইল পায়ের কাছে। মাঝে একবার প্রতিবাদ করে বের হয়ে যাবার জন্য স্লিপিং ব্যাগের শেষের প্রান্ত থেকে আমার পেটের এলাকা পার হয়ে বুকের এলাকা শেষে যখন ব্যাগের শেষপ্রান্তে চলে আসল- বের না হয়ে ওখানেই ধুপ করে পরে গেল কারণ বাহিরে প্রচণ্ড ঠান্ডা। শিবু আর আমি দুজনে মিলেও আমার গা- ঘুমানোর জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রায় নিতে পারলাম না। কোথায় জানি একটা মোরগ ডাকতেসে। ভাবলাম সকাল হইতে আর বেশি নাই দেরি। খিচ মেরে শুয়েই থাকি। কিন্তু সময় আর গড়ায় না। উঁকি মেরে যে দেখব আলো ফুটসে কিনা সেই সাহসও হইতেসে না এত ঠান্ডা। আবার মোরগ ডাকল। আরও সময় গড়াল। উঁকি মারলাম- নাহ! আলোর কোনো চিহ্নও নাই। আর পারলাম না উঠে বসে কান্না শুরু করলাম। তখনই টের পেলাম আমার স্লিপিং ব্যাগ ভেজা। আরও হতাশ হয়ে গেলাম, অস্থির হয়ে গেলাম।
শেষদিনঃ
শেষদিনের পরেঃ
এয়ারবিএনবিতে জিয়ন রিভিউ দিসে এনিকে। ভালো রিভিউ। সাবমিট করার পরে দেখল মহিলা বাজে রিভিউ দিসে। মহিলা আমাদের ডাস্টবিনের ভিতরে রাখা কাচের বোতল বের করে দেখসে ভদকা খাইসি। এলকোহল 'সাবস্টেন্স' নিষেধ লেখা ছিল, জিয়ন এইটা খেয়াল করে নাই। যাই হোক জিয়ন মহিলাকে সরি বলে এয়ারবিএনবি প্রোফাইলই ডিলিট করে দিসে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন