৪/২৯/২০২৪ বর্তমানে থাকা
রাত। জিয়নের বিছানায় ওর বুকের ওপর পরে আছি। জিয়ন পেঁচিয়ে আছে আমাকে। মুখে মুখে আদরের মাঝে চুমু খেতে খেতে বললাম আমাকে প্রেমের কথা বল, প্রেমের কবিতা। বলে বুকের কাছে মাথা নিয়ে মুখ গুঁজলাম। জিয়ন হুমম্ম কোরে হামিং করতেসে কোন ক্লাসিক ওয়েস্টার্ন ধাচের অপরিচিত কোন সুর। আমি ওর বুকের ভাইব্রেশন টের পাচ্ছি প্রতিটা কম্পন। এরমাঝে আমি কল্পনার জগতে চলে গেলামঃ
একটা মুভি সিন। এইরকম হামিং হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে, খুব তাজা, খুব কাছের, জীবন্ত। আর কোথাও কিছু শব্দ নাই এই পৃথিবীতে। এই হামিং শুধু কান দিয়ে না, সারা শরীর দিয়ে প্রবেশ করছে আত্মা স্পর্শ করছে।
প্রথম সিন ঃ হয়ত কালো অন্ধকার।
দ্বিতীয় সিন ঃ আলো। দিনের বেলা। আলোকরশ্মি একটা রঙ ছড়াচ্ছে চোখ বা ক্যামেরার এক কোণে। সবুজ ঘাস, অনেকদূর চোখ যায় এমন দিগন্ত, মাঠ। আকাশ। সোনালী রোদ।
ব্রেকিং ব্যাডের একটা সিন আছে জেসি পিঙ্ক আর ওর গার্লফ্রেন্ড নেশা করে আর পিংক বিছানা থেকে হাওয়ায় উড়তে থাকে চোখ খুলে- এরকম একটা সিন হয়ত কিছু- তবে চোখ আধখোলা বা বোজা বুঝতে পারা যায় না...
আর ব্যাকগ্রান্ডে সারা শরীর কাঁপানো একটা হামিং শব্দ।
ভাবতে ভাবতে শেষ হয়ে গেল জিয়নের হামিং। আমার কপালে একটা গাঢ় চুমু খেলো। আমি কাতর চোখে ভাবলাম- যাহ শেষ হয়ে গেল! কেন যে এভাবে অন্য জিনিস ভাবতে গিয়ে মূল ঘটনার এসেন্স হারায়ে ফেলি এই ভেবে হাহুতাশ লাগতে লাগল। আর হয়ত এভাবে বুকের মাঝে মাথা রেখে এমন গভীর কম্পন অনুভব করা হবে কিনা। আর হয়ত... যদিবা... কখনো ...কেন যে ...কোনদিন... ধুত্তুরি এত অতীত ভবিষ্যৎ কল্পনায় ঘুরে বেরাই শুধু বর্তমানে থাকার আফসোসটাই রয়ে যায়। হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে চান্দের আলোর মতন সময় গড়ায় চলে যায়। কিছুই ধরে রাখা যায় না বলে বলে হাহুতাশ করে করে আবার অন্যসময়টাকে নষ্ট করা। এইসব দুষ্টচক্র!
জিয়ন যে খুব ভিন্ন। এত নস্টালজিকতা নাই, এত হায় হায় ধুর কি হল কি হবের বালাই নাই। আছে, খুব করে বর্তমানে আছে তাই শেষ হয়ে গেল শেষ হয়ে যাবে এহেন ক্ষোভ আফসোস তাড়াহুড়ো নাই।ইস যদি বা আমিও এভাবে ঘাসের পরে রবো শুয়ে ......
তুমি তা জানো না কিছু—না জানিলে,
আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে;
যখন ঝরিয়া যাবো হেমন্তের ঝড়ে’—
পথের পাতার মতো তুমিও তখন
আমার বুকের ’পরে শুয়ে রবে?
অনেক ঘুমের ঘোরে ভরিবে কি মন
সেদিন তোমার!
তোমার এ জীবনের ধার
ক্ষ’য়ে যাবে সেদিন সকল?
আমার বুকের ’পরে সেই রাতে জমেছে যে শিশিরের জল,
তুমিও কি চেয়েছিলে শুধু তাই;
শুধু তার স্বাদ
তোমারে কি শান্তি দেবে;
আমি ঝ’রে যাবো–তবু জীবন অগাধ
তোমারে রাখিবে ধ’রে সেইদিন পৃথিবীর ’পরে,
—আমার সকল গান তবুও তোমারে লক্ষ্য করে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন