০৬/২১/২০২৪ 06/21/2024
০৬/২১/২০২৪
লেকমিড।
দুপুরে সনিকের বার্গার অর্ডার দিয়ে দুইজনে ভাবতে লাগলাম যে ন্যাশনাল পার্কে ঘুরার পাসকার্ড আছে তাইলে এই গরমে লেকমিড এত কাছে থাকতেও পানিতে নামছি না কেন। বার্গার এসে পৌছাতে পৌছাতে ঠিক করলাম যে তাই হবে। তাছাড়া একটা শেড কিনলাম মার্কেটপ্লেস থেকে সেকেন্ড হ্যান্ড। লম্বা সফরে বের হবার সময় নিসিলাম সাথে, তবে সেট করা হয় নাই। তারপর ট্যুর ক্যান্সেল করে ফিরে আসতে হল ইমারজেন্সি। সেই শেডটারেও কাজে লাগাতে হবে। ঘরে এসে ক্যাম্পিং এর শেড, দুটা বিয়ার একটা জিপব্যাগে ভরে কতগুলা বরফ নিয়ে তাতে, দুটা চেয়ার আর চোখের গগল নিয়ে গেলাম লেক মিডে। বিচ এক্সেস। ঘর থেকে যেতে আধাঘন্টা বা চল্লিশ মিনিট।
শেডটা পোল দিয়ে দাড় করায়ে আর বড় বড় পাথর দিয়ে চারকোণা চাপা দিয়ে দিলাম। অনেক বাতাস, ভারী পাথর সরিয়ে আরও ভারি পাথর দেয়ার দরকার পরল। শেডটা দাড়ালে চেয়ার দুটা মেলে দিয়ে বসে লেক দেখতে দেখতে দুটা বোতল খুললাম। প্রচণ্ড গরম। জামাটা পালটে আমি টু-পিস পরে নিলাম আর মাথায় ক্যাপ আর গগল। সকালে উঠেই সেদিন গোসল করসিলাম তাই চুল আবার ভিজাতে চাচ্ছি না।
আমি বিয়ার অর্ধেক খেয়ে আর গাজার ভেপে একটা টান দিয়ে পানিতে নামলাম। এদিকে অনেক বড় বড় পাথর। পায়ের নিচে লাগে খুব। সাবধানে ভেতরে যেতে লাগলাম। পানি উষ্ণ। হাটুপানিতে গিয়ে শরীর ডুবিয়ে বসে রইলাম। জিয়নকে চিৎকার করে বললাম আমার অর্ধেক-খাওয়া বিয়ারটা নিয়ে নামতে। ও দুই হাতে দুইটা বিয়ারের ক্যান নিয়ে নামল একটু পর। দূরে কঠোর পাহাড়। আকাশে সূর্যের তাপ। গভীরে গেলে পানিটা উষ্ণ হতে ঠান্ডা কিছুটা। লেকের পানির ঢেউ। সময়টা এত অসাধারণ লাগতে লাগল। আর এত এত অসাধারণ সময় সব টুকে রাখা সম্ভব হয় না।
পানিতে নেমে দুইজনে মহা খুশি। সাতার কাটার মতন গভীর পানিতে গেলাম না। গলা পানি পর্যন্ত ডুবে পানির নিচে একজন আরেকজন হাতাহাতি করতে লাগলাম। জিয়ন আমার পাছা ঘষতে লাগল। আবার আমি জিয়নের পিঠে ঘষতে লাগলাম। জিয়ন কোলে তুলে নিল আমায়। পানির নিচে ওজন হ্রাস পায়। অনেক হাল্কা লাগে সব। আমি জিয়নের কোমড় দুইপা দিয়ে পেচিয়ে ভাসতে লাগলাম। অনেক চুমু খেতে লাগলাম আমরা। গলা পানিতে এর মাঝে লেকের পানির ঢেউ আমাদের নাকানি চুবানি দিতে লাগল। দুইজনে দুইজনের প্যান্টের ভেতর হাত ঢুকিয়ে হাতাতে লাগলাম। ঢেউয়ে দুলতে দুলতে সেক্স করার চেষ্টা করলাম। পানির নিচে সেক্সে সুবিধা হল লুব্রিক্যান্ট লাগে না। তবে হর্নি হওয়া বাঞ্চনীয়। অনেকক্ষণ ছিলাম আমরা পানিতে। আশেপাশে মানুষজন বেশ দূরে দূরে। সেন্টমার্টিনের পানিতে নেমে এভাবে জিয়নের কোলে উঠে ছিলাম মনে পরে। কোমর দুপা দিয়ে আটকে- তবে সেবার আর এবারের তফাত যে তখন সাতার পারতাম না। সাতার যদিও আজকেও কাটি নাই কিন্তু পানির সাথে একটা সখ্যতা হইসে এটাই ভাসায়ে রাখে। প্রথম হানিমুন ছিল- সেন্টমার্টিন। ২০১৬ বা ২০১৭। অনেকগুলা বন্ধুবান্ধবী, জিয়নের কাজিন। তখনও প্রেমে ভাসা জীবন ছিল। এখনো প্রেমে জীবন কাটে। হে ঈশ্বর সত্যি ভাবিনি জীবন এমন। বদনজর থেকে আমাদের বাচিয়ে রেখ।
পানি থেকে উঠে আসার সময় পানির নিচের পুরাটা বড় বড় পাথর, পায়ে অনেক ব্যথা লাগতেসে। আমার স্যান্ডেল টাইপ কিছু নিতে ভুলে গেলাম। উঠেও শেড পর্যন্ত এভাবে হেটে যাওয়া লাগল। কিছুক্ষণ বসে জিরিয়ে নিলাম। রোদ, তাপ, পানিতে দাপাদাপি- সব মিলিয়ে খুব ক্লান্ত হয়ে গেলাম। টু-পিস পালটে জামা পরে নিলাম- তাওয়াল পেচিয়ে ওখানেই। টুপিস দুটা পাথরের উপরে রোদে শুকাতে দিলাম। জিয়নের মাথার ক্যাপটাও ভিজে গেসে। এরমাঝে জিয়ন আরেকটা বিয়ারের ক্যান খুলল শব্দ পেলাম। আমি একটা বই খুলে পড়তে লাগলাম। কিছুক্ষন পরে উঠব উঠব করছি এর মাঝেই বাতাসের প্রচণ্ড ঝাপ্টায় শেডটা টপকে গেল। আমরা আর শেডটা দাড়াবার চেষ্টাটাও না করে সব ভাজ করে গুটিয়ে ব্যাক করলাম গাড়িতে। বাসায় এসে জিয়নের মনে হল ঈদের কোন বাংলা নাটক দেখতে দেখতে ঘুমাবে। এরপর মেঝেতে শুয়ে শুয়ে বুকে ল্যাপটপ নিয়ে একটা নাটক রেখে আমরা ঘুমিয়ে গেলাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন