পিএইচডি সিরিজঃ Spring 2025

 ২/১৩/২০২৫ 


মাথা হ্যাং হয়ে আছে। রাত এখন ১১ টা ২৯। প্রচণ্ড টায়ার্ড। প্রফেসর তাও আরেকটা সুযোগ দিছে হোমওয়ার্ক রি-সাবমিট করার। খুশি হবো নাকি গালি দিবো শালাকে বুঝতেসি না। 

একটা আনকমপ্লিট হোমওয়ার্ক জমা দিলাম আজকে। এইরকম ছ্যাড়াব্যাড়া কাজ পুরো পিএইচডি প্রোগ্রামের কোনো কোর্সওয়ার্কে এখন পর্যন্ত করি নাই। এডভ্যান্স বায়োস্ট্যাট কোর্স। ঠিকই আছে, এইটা পুরো প্রোগ্রামের সবচেয়ে কঠিন কোর্স- দেদারসে সবার জন্যেই। সেখানে হেলেদুলে পার পেয়ে যাবো- সোশ্যাল বিহ্যাভিয়ার(কোর্স)এর মতন- তা তো হতে দেয়া যায় না। প্রথম ক্লাসে ইন্ট্রোর সাথে সিম্পল লিনিয়ার পড়িয়ে পরের ক্লাসে দিল মাল্টিপল লিনিয়ার আর তৃতীয় সপ্তাহে এক ক্লাসে এনোভা- ম্যানোভা পড়ায়ে দিল। আজকে হোমওয়ার্ক ছিল এই ম্যানোভার উপরেই। এই ক্লাসে সবার মুখে মুখে স্যাস (SAS programming) নিয়ে ভীতির কথা শুনে আসছি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় স্যাস হচ্ছে ক্লাসের সবচেয়ে সহজ পার্ট। টাফ জিনিস হচ্ছে ডায়গনস্টিক, জায়গা বুঝে বিভিন্ন টেস্ট এপ্লাই করা , ইন্টারপ্রেট করা, ভ্যালিডেশন, রিজেক্ট হইলে অমুক টেস্ট ইত্যাদি এসব করতে থাকা। তালগোল পাকায় ফেলতেসি। (হোমওয়ার্কে) একটা রিডিং পার্ট ছিল- পেপারের মেথডলজি রেজাল্ট পড়ে প্রশ্নের উত্তর দেয়া- এক দুই লাইনে। আরেকটা পার্ট হল ওই যে উপরে যা ব্যাখ্যা দিলাম- ডাটাসেট নিয়ে কাজ।  আরও আগে শুরু করা উচিত এসব। দুপুরে ক্লাসের আগে প্রফেসরের সাথে মিটিংও ছিল।


বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি পার্ক করে হেঁটে ডিপার্টমেন্ট যেতে যেতে পাক্কা ৬ মিনিট দেরি হয়ে গেল। ৪ মিনিটের মাথায় নক দিলাম মোবাইলে "সরি একটু দেরি হয়ে যাচ্ছে"। রুমে "গুড ডে" জানিয়ে ঢুকলে আবহাওয়া বৃষ্টি সম্পর্কিত হাল্কা আলাপ সেরে HDML তার হাতে নিয়ে এগোলাম একটা ছোট কনফারেন্স রুমের দিকে। বড় স্ক্রিনে কাজ দেখতে সুবিধা হয়, খুব ভালো লাগে যে ল্যাপটপের স্ক্রিনের বাইরেও অন্য স্ক্রিন দেখার সুযোগ হবার জন্য। প্রফেসরের সাথে দেখা আজকে বসলাম R programming নিয়ে। একটা প্রজেক্টে কাজ করতেসি অনেকদিন ধরে- স্ট্যাটিস্টিশিয়ান হিসেবে হেল্প করতেসি প্রফেসর আর আমি। গত সপ্তাহের কাজ তার আগের সপ্তাহেই শেষ করে জমা দিসি। এরপর ওদিক থেকে কোনো রেস্পন্স নাই। প্রফেসর ভ্রু নাচায়ে বলল- দেখস অবস্থা? ওদিকের কোনো আলাপই তো নাই।  

প্রজেক্ট সুপারভাইজার বেশ লুথা, একটা কাজ দিলে আমরা তাড়াতাড়ি সপ্তাহ শেষে কইরা ফেলতেসি কিন্তু তারপর ২-৩ সপ্তাহ ওদের রেস্পন্স নাই। তো সপ্তাহে তো দেখা হয় মিটিং একদিন করে। তাইলে মিটিংএ কাজ কি? কাজ হইল স্ট্যাটিস্টিক্সের আলাপ করা, ক্লাস কেমন চলতেসে, কোন ক্লাসের কি বুঝি না বুঝি সেটা নিয়াও আগ্রহ দেখায়। লজিস্টিক মডেল একদিন SPSS-এ রান দেই তো আরেকদিন R এ রান দেই, নিজেরাই মাথায় প্রশ্ন বানাই- যেমন, ক্যাটেগরিকাল ভ্যারিয়েবলের রেফারেন্স ফ্যাক্টর যদি প্রথম বা শেষ না হইয়া অন্যকিছু চুজ করতে চাই? SPSS  এ করতে গিয়া (দুইজনে) ব্যর্থ হইসি, R এ সলভ করতে চেষ্টা করলাম , অনেক গুতাগুতি কইরা হইল। প্রফেসরের খুশিতে মুখ এগাল- ওগাল হয়ে গেল। পরাজয়ে ডরে না বীর। নিজে নিজে সমস্যা বানায়ে নিজে নিজে সমাধান করতে চেষ্টা করে, হোচট খাইলেও আগায়ে যাইতে থাকে, আর পাইরা গেলে অনেক খুশি হয়। এত্ত প্লেফুল! মাই শার্লক হোমস! (এত্ত জোস কইরা এক্সপ্লেইন করে যে মনে হয় ওহ এত্ত সোজা!! and I feel like his Dr. John H. Watsons *_* ).

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জুন ২৭,২০২৫

জুন ১, ২০২৫

স্বপ্নঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪