জুলাই ২৫, ২০২৫

 #বাস্তব

সকালে ঘুম ভাংসে সাড়ে দশটায় ( গতকাল ভাংসিল দুপুর একটায়, তারপর আবার ঘুমাইসি দুপুর দুইটায় উঠসি, তার আগের দিন তিনটায় উঠসি।) 

ঘুম ভেঙে উঠে রুমের দরজা দিয়ে বেরোবার সময় উষ্ঠা খেলাম দরজার কোণার সাথে বাম পায়ের তালুর। হিসাব করসিলাম যেরকম - দরজা দিয়ে স্মুথলি বের হয়ে যেতে পারব- পারি নাই। আজকাল এ ধরণের (ছোট ছোট) হিসাবে খুব বেশিই গড়মিল হচ্ছে। যতটুকু দমে একটা কাজ- ধরি, এক বসায় কিছু করে উঠতে পারব - পারা যায় কিন্তু এরমাঝেই আবার আরও কিছু হয়ে যায়। আরও বেশ কিছু মাল্টিটাস্ক করা লাগে যেগুলা হিসাবের মধ্যের থাকে না। কিছু একটা জিনিস চলে আসে। হয়ত মনটির মুছতে নিলাম - এর মাঝে পাশেই ধূলা দেখে সেটা পরিষ্কার করতে নিলাম তারপর হাতে একটা জিনিস -শুধু মনিটোর পরিষ্কারের কাপড়টা থাকবে প্ল্যান করসিলাম কারণ আরেক হাতে স্প্রে বোটল তুলব বা ধরে রাখব- এরমাঝে টেবিল পরিষ্কারের আরেকটা কাপড় হাতে- তখন খুব ক্রাউডেড আর হয়রান লাগে খুব।

চাটায় চুমুক দিবো এখন। তার আগে বিস্কিট ভিজালাম বিস্কিটে কামড় দিলাম-  যেমন গরম ভাবসিলাম তার চেয়ে গরম চা - কি যে বিরক্ত লাগে। মানে লাইফের স্যাটিস্ফেকশন ফরত করে - পাতলাপায়খানার শব্দের মতন ফরররত করে পরে যায়। স্যাটিস্ফেকশন ডাউন। 

এক কাপ চা বানাতে দিয়ে- এই যে চাপাতা কম হল- বেশি হল, বেশি দিলাম তেতো হল- এসব করে দিনকাল যায় এত্ত অসহ্য অসহ্য। চা হয়ে গেলে কাপে ঢেলে ড্যানিশ ঢেলে কিছু একটা বাল বানালাম - ওদিকে বিস্কিট খাবো বিস্কিটগুলা পোতানো- সেগুলা ওভেনে গরম করে আবার ফ্রিজে ঢুকায়ে রাখা হইল। ডিপফ্রিজে। বের করে এনে বসলাম আবার টেবিলে- হয় নাই ঠান্ডা। আবার নিয়ে গেলাম ডিপে ঢুকায়ে কিচেনের কিছু একটা পরিষ্কার করে দুই মিনিট পরে বিস্কিট ঠান্ডা হলে নিয়া আসলাম। ভাবসি এতখণে চা ঠান্ডা হইসে বাল বাল এত্ত অসহ্য বিশ্রী তিক্ত হয়ে আছে আমার মুড। 

বালের প্রচণ্ড গুয়ের চা হইসে।


যা লিখতে বসা। সকালে উঠে টয়লেট সেরে (পিরিয়ড হইসে) রান্নাঘরে গেলাম আমার প্রসাধনী রিফিল করতে। ছোট তিনটা প্লাস্টিকের বোতল গতকাল ভালোমতন সাবান গরম পানি দিয়ে ধুইসি - এই বাল ধুতে গিয়ে গরম পানি একটু বেশি গরম হয়ে যাওয়ায় এগুলার চেহারা ভচকাই গেসে। যাই হোক শুকাইসে। শুকানির পর একটাতে ভরব অলিভ ওয়েল। ভরতে গিয়ে কিচেনের পাপশের উপর যথেষ্ট পরিমাণ অলিভ অয়েল পরল। ওখানের প্রসাধণীর কাজ ওভাবেই রেখে কতগুলা বেকিং সোডা আর ভিনেগার ঢাললাম পাপশে। তার উপরে থালাবাসনের স্ক্রাবারে সাবান আর খানিকটা পানি ঢেলে পাপশটাকে ভালোভাবে ঘষলাম পুরোটা। চুলায় পাতিলে গরম পানি ঢেলে পাপশ নিয়ে গেলাম বাথটাবে। এরপর গরম পানির পাতিল থেকে গরম পানি চায়ের কেটলিতে ঢেলে ঢেলে ( কারণ চায়ের কেতলির মুখ চিকন সরু- ভালোভাবে পানি চিকন হয়ে পরবে- যেটা পরিষ্কারের ভাল কাজ করবে)। এই ব্যাখ্যা করতে করতে হাপাই গেসি। 


যেমন; একটা গরম ঢাকনি সিংকে রাখার এইম করসি - রান্না চুলায়- গরম উনুন। ঢাকনিটা সিংকে রেখে তারপর পাতিলের রান্না নেড়ে দিবো দুহাত দিয়ে। একহাত দিয়ে ঢাকনাটা তুলে সিংকে রাখতেসি- ডানহাত আর সিং ডানদিকেই। অন্যহাত দিয়ে খুনতিটা পাকড়ে আছি। সিংকে একটা মগে আরও কিছু চামচ রাখা কিন্তু প্রাক্তন পর্যবেক্ষণ দ্বারা জ্ঞানলব্ধ যে এখানে ঢাকনিটা রাখা যাবে। খালি  হাতে ধরলাম ঢাকনিটা - যেটা ধরা যায় সর্বোচ্চ ৫ সেকেন্ডের জন্য। পাচ সেকেন্ডের কাজ এটা- পাচ সেকেন্ডেই করতে হবে। ঢাকনিটা রাখতে গেলে সিংকের মগ থেকে একটা চামচ পরে গেল সিংকে, চামচটা এমনভাবে পরল যে ঢাকনিটা রাখার আগে চামচটা সরিয়ে নিতে হবে নাইলে ঢাকনি রাখতে গিয়ে মগটা উলটে যাবে আরও অনেক ধরণের কন্সিকিউটিভ বিপদ ঘটার সমূহ সম্ভাবনাও বরাদ্দ।

তখন কাজ হয়ে দাঁড়ায় চামচটা মগের ভেতর রাখা। মূল কাজ থেকে এভাবে আমরা দূরে সরে যেতে- অনেক এনার্জি আর মাথা আর মগজ আর মাল্টিটাস্কিং আর হতাশা ব্যর্থতা তিক্ততা উচ্চাশা অনাকাঙ্খা।এত্ত বাল এত্ত বাল বাল বাল্লল্লল্লল অসমাপ্ত বাল।


তো যেই পাপশ ধোয়ার গল্পটা। গরম পাতিল থেকে ফুটন্ত পানি কেতলিতে ভরে - পাতিলে আরও পানি ঢেলে সেটা গরম উনুনে রেখে - গরম কেতলিটা কাপড় দিয়ে ধরে - বাথটাবে শুয়ে থাকা পাপশে সুনির্দির্ষ্ট জায়গা বরাবর সরু গরম পানি ঢেলে - এভাবে দুইবার - পুরো পাপশটা ভালভাবে ভেজানো হলে - আগেই সাবান মাখানো থাকায় -  এবার হাতে গ্লাভস পরে - শক্ত বাথরুম ঘষার ব্রাশটা দিয়ে ডলে ডলে - তারপর মাথার উপরের শাওয়ারে গরম পানিটা ছেড়ে পাপশের উপর পানি পরতে থাকে আর আমি ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে ময়লা ড্রেইন করতে থাকি। একইভাবে পুরা প্রসেস - কেতলি দিয়ে দুইবার পানি ঢালা -গ্লাভস পরে ব্রাশ দিয়ে - উপর থেকে শাওয়ারের গরম পানি পরতে থাকা অবস্থায় ধুতে থাকা- পুনরাবৃত্তি। শেষে পানি বন্ধ করে শুধু ব্রাশ দিয়ে ঘষে ঘষে অবশিষ্ট পানি যা সরানো যায় পাপশ থেকে - সরিয়ে। আগে বাড়ির দরজাটা খুলে দিয়ে আবার ফিরি- কারণ পাপশ নিয়ে একবারে বাড়ির বাইরে যাইতে চাইলে পাপশ থেকে পানির ড্রপ পরবে বাড়ির ভেতর- কারণ দরজা খুলতে এক্সট্রা টাইম লাগবে। তার হেঁটে গিয়ে দরজা হা করে খুলে আবার বাথরুমে এসে পাপশটা গুল্টু পাকায়ে তাড়াহুড়া করে বাড়ির বাইরে নিয়ে একবারে তিনধাপের সিড়ি টার্গেট করে মেলে দেয়ার চেষ্টা করি- মিস করি। আবার ঝুকে গিয়ে একটা সিড়িতে মুখ থুবড়ে পরা পাপশকে টেনে মেলে দেই।


এই করেই মনে হল সারাদিনের সব এনার্জি এখানেই শেষ। এই জীবন। এইটা করতে ওইটা করো এইটার জন্য অমুক টুল বরাদ্দ আছে অন্য টুল দিয়ে কাজ চালাইতে গেলে কাজ বাড়ে বৈ কমে না। এতকিছু মেইন্টেইন কইরা চলতে হয় জীবন এত্ত ক্লান্ত আমি এত্ত ক্লামসি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

জুন ২৭,২০২৫

জুন ১, ২০২৫

স্বপ্নঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪