ডিসেম্বর ৩,২০২৬
আজকে ঘরে কার্পেট ক্লিন করাইসি। এটা বাসাভাড়ার সাথে কম্পলিমেন্টারি - বছরে একবার কার্পেট শ্যাম্পুইং। পুরা ঘরের কার্পেট এরিয়া মানে দুই বেড আর মাঝের করিডোর আর তারপর ড্রইং রুম - এই এরিয়াতে যা আসবাবপত্র ছিল সব টেনে সরায়ে ওই রান্নাঘর আর ছোট ডাইনিং এরিয়া এখানে সরিয়ে রাখা কাজ। গতকাল রাত সাড়ে এগারোটায় বাসা ফিরে এগুলা টানাটানি করে সরাইসি সব , গতকাল মানে পরশু রাত ডিসেম্বর ১ এর কথা। ডিসেম্বির ২ এ সকালে বাসা পরিষ্কার করে গেল। কার্পেট শুকাইতে ভালোই মেলা সময় লাগে। জিয়ন লাইব্রেরিতে যাবার আগে ওই কার্পেট-বিহীন জায়গায় জমিয়ে রাখা এলাকা থেকে সোফাটা টেনে নিয়ে ড্রইং রুমে রাখলাম। জিয়ন লাইব্রেরি গেল। আমি মরার মতন ঘুম দিলাম। কাদার মতন ঘুম যেন সমুদ্রের স্রোতের মতন তন্দ্রায় যাই আবার ভেসে উঠি আর ঠাওর করতে পারি না আসলেই জেগে নাকি ঘুমিয়ে আছি। টের পেলাম ঘরের দরজার ভেতরে জিয়ন জুতা খুলতেসে। চোখ খুলে জিয়ন জিয়ন ডাকলাম। নিশ্চিত হলাম তন্দ্রা ছিল কারণ সাইকেল নিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠার সময়ে সিড়িসমেত বাসা কাপে আর দরজা মোচড় দিয়ে খুললে শব্দ হয় - এই দুইটা কম্পন আর শব্দ ওই ড্রয়িং রুমের সোফায় শুয়ে এড়ানো যায় না।
জিয়ন আসল দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকাল। ও আসলে আমি উঠে বসলাম। হাতমুখ ধোয়ার নাম করে গোসল করে ফেললাম। এতখণে ফ্রেশ লাগতেসে। নিজেকে বেশি পুশও করতেসি না, হাপায়ে যাইতেসি খালি। আজকে পিরিয়ড হবে তাই নিজেকে ধৈর্য দিলাম, সময় দিলাম, ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখলাম। ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম আমরা। লাস ভেগাসে গত এক বছরে যা তা বৃষ্টি হইসে - যা হবার না তা বৃষ্টি হইসে। ঘরের সামনের পাপশটা তাই উচ্ছন্নে গেসে। টয়লেট টিস্যু, পাপশ আর একটা হাল্কা বেগুনি নেইলপলিশ কিনে ট্যাকো খেয়ে ঘরে ফিরলাম।
ঘরের অবস্থা তখনও এই যে কার্পেট-বিহীন এরিয়াতে সবকিছু জমে স্তুপ হওয়া, সোফা ছাড়া। জিয়ন সোফায় বসে এপিডেমিওলজির দুইটা হোমওয়ার্ক নিয়ে আলাপ করতে থাকল - আজকে লাইব্রেরিতে যা সলভ করে আয়াছে, আমার সাথে আলাপ করতে করতে - ওর কাছে যেটা মেইক সেন্স করে আমার কাছেও করতেসে কিনা। কেস-কন্ট্রোল স্টাডি আর কোহোর্টের দুইটা প্রবলেম - সলভ করতে করতে আস্তে আস্তে জিনিসপাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রুমে ঢুকাতে লাগলাম। পেটটা খুব কষা হইসে - পেট ফাপা দিয়ে আছে - ঘি দিয়ে দুধ খেলাম তারপর আর এসব পড়ালেখার মধ্যে থাকতে ইচ্ছা করল না। জিয়নের মদদে আমার রুমে খাট বিছানা সেট করলাম।পরে আবার রুমে ফিরলে দেখি জিয়ন সুন্দর মতন টেনে চাদর , দুটা বালিশ আর কম্বল বিছায়ে দিল। বিছানার দিকে তাকায়ে এত মায়া লাগল। ছেলেমানুষের ছোয়ায় যত্ন দেখতে এত্ত অদ্ভূত একটা সৌন্দর্য আছে।
পুরাতন হিন্দি মুভি ছেড়ে টেনে টেনে দেখতে থাকলাম আর হাবিজাবি মিষ্টান্ন যা আছে ঘরে চিবাতে থাকলাম জিয়নের সুবাদে। ফালতু মুভি দেখে দুজনে টিটকারি মারলাম হাসাহাসি করলাম। তবে ঐশ্বরিয়াকে দেখাটাই আমার জন্য মূল আকর্ষণ।
টয়লেটে বসে প্যান্টি খুলে দেখতে থাকলাম মনোযোগ দিয়া পিরিয়ডের আশংকা করছি। জিয়ন দাত ব্রাশ করতে লাগল জানালাম যে পিরিয়ড এক্সপেক্ট করতেসি হচ্ছে না ধ্যাত। টয়লেট টিশ্যু দিয়ে যোনি মুছতে গেলে হালকা রক্তের দেখা পেলাম। সুখবর দিতে দিতে একটা স্যানিটারি ন্যাপকিন পরে ফেললাম আর পিরিয়ড-প্যান্টির ইপরে একটা বাইক শর্ট পরে নিলাম যেন ঘুমের মধ্যে প্যাড বেশি লাড়াচাড়া না করে - এক্সট্রা প্রোটেকশন স্বরূপ।
ডিম লাইটটা বন্ধ করে শুতে গিয়ে এই লেখা লিখছি। জিয়ন নাক ডাকা শুরু করল। প্রতিদিন আমরা একসাথে ঘুমাই না। হয়ত আজকে এই কার্পেট ক্লিনিং এর কাজটা না থাকলে দুইজন দুইরুমেই ঘুমাতাম। পুরা বিছানায় হাত পা মেলে শুতে বেশ ফ্রিডম অনুভূত হয়। তবে আজকে না। এরকম একটা দিনে এডজাস্ট করে একটু কম ঘুমাতেও ………
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন